তপস্বী বিড়াল
-শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী
********************************
( মহাভারত-শান্তি পর্ব)
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''':
একদা এক বিড়াল ছানা
পড়িয়া ছিল বনে,
মাতাপিতা হারা হইয়া
কাঁদে ব্যাথিত মনে।
বিড়াল ছানার কান্না শুনিয়া
এক দ্বিজবর,
ধর্মের কথা মনে স্মরিয়া
ভাবিলেন বিস্তর।
বিপদেতে পরিলে জীব
উদ্ধারিতে হয়,
জীব রক্ষা ধর্ম হয়
শাস্ত্রে তাহা কয়।
এই কথা ভাবিয়া দ্বিজে
বিড়ালে কোলে করি,
বাড়িতে নিয়া গেলেন তিনি
মানব ধর্ম স্মরি।
স্ত্রীকে ডাকিয়া বলেন তিনি
শোনগো পাটেশ্বরী,
সুখি সংসার দিল প্রভূ
সন্তান নিল কাড়ি।
সন্তান মত শাবকেরে
লালন পালন কর,
দুধের সাধ মিটাই ঘোলে
বিড়ালে সন্তান তর।
এই ভাবে দিন মাস
বছর চলিয়া যায়,
বিড়াল বাছা এতদিনে
বড় হয়ে যায়।
কিন্তু এক বিপত্তি ঘটিল
ঘরে ব্রাহ্মণের ,
পুত্র বিড়াল চুরি করে
ঘরে মানুষের।
বিড়ালের অত্যাচারে
পড়শি দিশাহারা,
পুত্রের নামে বিচার দেয়
প্রতিবেশী যারা।
মন দুঃখে দ্বিজ ভাবে
মাথায় দিয়া হাত্,
বিনাদোষে মন্দ শুনি
মাথায় বজ্রাঘাত্।
দ্বিজ ভাবে মনে মনে
বিড়াল জন্ম দোষে,
যতই দিলাম দ্বিজের মর্যাদা
স্বভাব নাহি ঘোচে।
মনের দুঃখে দ্বিজবর
উত্তম মধ্যম দিয়া,
হাতে পায়ে বাঁধন দিয়া
বনে যান নিয়া।
পিতার আচরণে বিড়াল
মনে করিল স্থির,
আজ হইতে তপস্যা করিব
হবনা আর বাহির।
এমনি ভাবিয়া বিড়াল বাছা
তপস্যায় বসিল,
এই ভাবেতে অনেক দিন
গত হইয়া গেল।
বনের মাঝে সকল ইদুর
বিড়ালকে দেখিয়া,
ভাবে বিড়াল তপস্বী হইল
সকল মায়া ত্যাগীয়া।
ভক্তি করি সকল ইদুর
আসি প্রণমে বিড়ালে,
পাদ্য অর্ঘ দিয়া বিড়ালে
তখল পূজিল সকলে।
তারপরে কিবা ঘটিল
শোনেন বন্ধুগণ,
তপস্বী বিড়ালের স্বভাব
কিছু করিব বর্ণন।
কয়লার কি ময়লা যায়
সাবানেতে ধুইলে,
জন্ম দোষ যায়না কভু
ধর্ম আচরিলে।
ইদুর গন সবাই মিলে
তারা সিদ্ধান্ত করিল,
সাধুর কাছে বাচ্চা রেখে
খাদ্যের খোঁজে গেল।
এমনি করে ইদুরগন
যায় খাদ্যের কাজে,
সন্তান সন্তোতি সকল রেখে
তপস্যির মাঝে।
একদা ভাবিল ইদুরগন
বাচ্চা কেন কম,
কেবা আবার শত্রু হল
কেবা নরাধম।
এই ভেবে ইদুরেরা
অনেক যুক্তি করিয়া,
পাহাড়া দিল সবাই মিলে
বাচ্চাদের লাগিয়া।
এমন সময় ইদুর সবে
দেখে আচম্বিত,
বিড়াল সাধক তাদের বাচ্চা
করিতেছে হত।
বিড়ালের কান্ড দেখিয়া
মাথায় দেয় হাত,
এই বুঝি সাধুর কর্ম
ওরে তপস্বী বজ্জাত্।
সকল ইদুরে ফাঁদ পাতিয়া
বিড়ালকে মারিল,
ভন্ড সাধুর জীবন লীলা
সাঙ্গ হইয়া গেল।
অধম পবিত্রে গেয়ে গেলাম
ভারতের কথা,
যাহার শ্রবণে ঘুচে যাবে
জীবের সকল ব্যাথা।
অধম পবিত্র রচিল গীত
ভারতের সুধা,
যাহা পিয়ে যাবে জীবের
সকল ভব ক্ষুদা।
আমার সকল ভূল ত্রুটি
শ্রীগোবিন্দ চরণে,
নিবেদন করিনু দু'হাতে
আমার ব্যাথিত পরাণে।
""""""""""""""""

Comments
Post a Comment