Posts

পঞ্চ মহাযজ্ঞ

Image
 পঞ্চ মহাযজ্ঞ """""""""""""""""" -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী """"""""""""""""""""""""""""""""""" শোনেন সুধী জন শোনেন দিয়া মন। শাস্ত্র বিধি তত্ত্ব সুধা করিব বর্ণন।। সনাতন শাস্ত্র বিধি বলিব বিস্তারি। শুনিয়া শীতল মন পেয়ে সুধা বারি।। স্মৃতি শ্রুতি শাস্ত্র নীতি বলিব সভায়। শুনিলে মনের ভ্রান্তি দূর হয়ে যায়।। ব্রহ্ম দৈব পিতৃ ভূত আরো যে নৃ-যজ্ঞ। সনাতনে স্থিতি তাহা জানে না সে অজ্ঞ।। এই পাঁচটি কর্ম্মকে মহাযজ্ঞ বলে। পাপ পুণ্য জন্মে তাতে জানিবে সকলে।। সাত্বিক ভাবেতে যদি যজ্ঞ নাহি করে। তবেতো নিজের দেহে পাপ ফল ধরে।। ভিন্ন ভিন্ন পাঁচটি কর্ম্ম দেখিতে পাই। এক কর্ম্মে অন্য কর্ম্ম করে লাভ নাই।। বেদাদি পাঠেতে হয় পুণ্য উপজয়। ব্রহ্মযজ্ঞ বলে তারে শাস্ত্র মাঝে কয়।। দেবতা পূজায় তাতে পুণ্য লাভ হয়। দৈবযজ্ঞ বলে তারে শাস্ত্র মাঝে কয়।। পিত্রাদির শ্রাদ্ধ...

অধর্ম কথন

Image
 অধর্ম কথন *********      -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী *********************** "ছন্দ-পয়ার শোন শোন হরি ভক্ত  শোন দিয়া মন। ব্যাসের প্রসাদ কিছু  করিব বর্ণন।। সরল ভাষায় আজি  বুঝানোর লাগি। লিখিব পয়ার ছন্দে শক্ত ভাষা ত্যাগী।। নির্মল মনেতে শাস্ত্র পড়িবে  যতনে। খুঁজিয়া পাইবে ভবে  অমূল্য রতনে।। অনেক ধর্মনিষ্ঠ পুত্র  ব্রহ্মা সৃজিলেন। আরেক অধর্ম পুত্র  সৃষ্টি করিলেন।। সৃজিয়া অধার্মিক পুত্র  জগত মাঝে। পড়িলেন বিপাকে ব্রহ্মা  নিজের কাজে।। জন্মিয়া অধার্মিক পুত্র  বিশ্ব সংসারে। বিধি বাহিরে কর্ম  করিল ইচ্ছা ভরে।। অধর্ম করিল বিয়া  মিথ্যা নামে নারী। তার গর্ভে জন্ম নিল  যত ব্যাভিচারি।। এক পুত্র এক কন্যা  জন্মিয়া উদরে। নিজ কন্যা বিয়া দিল  প্রিয় পুত্র বরে।। দম্ভ পুত্রের নাম  মায়া নাম কন্যার। ভাই বোন দুইয়ের  বিভা সমাচার।। তাদের মিলনে পরে  পুত্র কন্যা জন্মে। লোভ আর শঠতা  নামে হয় ভূবনে।। পুত্র লোভ বিভা করে  শঠতা বোনে। বিবাহ হয় তাদের  পরম যতনে।। তাহাদের মিলনে হয়  দুটি সন্তান। ক্রোধ ...

সনাতন ধর্মের প্রমাণ.

Image
 সনাতন ধর্মের প্রমাণ.  ********************  -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ---+++++++++++++++++++ ছন্দ-পয়ার *********** শোন শোন বন্ধুগণ শোন দিয়া মন। ধর্মের প্রমাণ তত্ত্ব করিব বর্ণন।। ব্রহ্মদেব যেই ভাবে তত্ত্ব বলেছেন। ঋষিগণ যেই ভাবে লিখিয়া গেছেন।। সেই ভাবে তত্ত্ব কথা লিখিব বিস্তারি। সকল ভক্তগণে শুনিবে কর্ণভরি পূর্ব জন্মাদির সাথে বন্ধনের হেতু। এই জন্মে তৈরী করে সংসারের সেতু।। বৈবাহিক বন্ধনে নারী বদ্ধ হয়ে ঘরে। কঙ্কণ ধারন করে সনাতন আচারে।। কঙ্কণ ধারন অর্থ সঙ্কল্প ধারন। স্বামীর সাথে স্ত্রী ভবে কাটাবে জীবন।। সিঁদুর ধারন করে স্বামীর লাগিয়া। সুখে যেন পৃথিবীতে থাকেন বাঁচিয়া।। কঙ্কণ ধারন করে নারীদের হাতে। স্বামী যেন চির দিন থাকে তার সাথে।। বিচিত্র বস্ত্র অলংকার পরে স্ত্রীর গায়ে। নুপুর বাঁধে তার আলতা রাঙ্গা পায়ে।। আনন্দেতে সাজে স্ত্রী স্বামীর লাগিয়া। জীবন কাটে দিন স্বামীর সাথি হইয়া।। সমগ্র বেদ হল ধর্মের সত্য মূল। প্রমাণ সরূপ তাহা সংসারের কুল।। সদাচারে যেবা নারী থাকেন সংসারে। সত্যবতী বলে তিনি বিধিত সংসারে।। পঞ্চযজ্ঞ  বিবাহ  আর কঙ্কণ ধারন । ললাটে সিঁদুর টিপ বিবাহ কারন।। এই ...

জন্মান্তরবাদ ও অশৌচ বিধি

Image
 জন্মান্তরবাদ ও অশৌচ বিধি """""""""""""""""""""'""""""""""""""""'   -শ্রীপবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ************************** ছন্দ- পয়ার প্রথমে বন্দি আমি  পিতামাতা চরণ। শ্রীচরণ বন্দিয়া করি  শ্রীগুরু স্মরণ।। তার পরে বন্দনা করি  জগত সাঁই। ইহ কালে প্রেম দিতে  আর কেহ নাই।। শোন শোন শ্রোতা সব  করি নিবেদন। শাস্ত্র হতে কিছু তথ্য  করিয়া চয়ন।। জন্মান্তরবাদ তত্ত্ব  বলি ভাল মতে। শুনিবেন সাধু সবে  এইনা সভাতে।। পূর্ব জন্ম কর্ম দোষে  দূষিত হইয়া। পরবর্তী জীব কুলে  আসে জন্ম নিয়া।। কি কারণে জীব সব  জন্মে বারে বারে। বলে যাব তত্ত্ব কথা  সভার ভিতরে।। যার যার কর্ম ফল  প্রভূ দান করে। কর্ম ফলে পাপ পূণ্য  যার যার ধরে।। কর্ম দ্বারা পাপ পুণ্য  শাস্ত্রেতে বিধিত। সে পাপ পুণ্য ভেদে  হয় জন্ম বিহিত।। তাহাতেই উঁচু নিচু  জাতি সৃষ্টি হয় । সকল জীব কুলেই  শ্রেণি ভেদ রয়।। দেবতা মানব আর পশু পাখি গাছ। আরো আছে কৃমি কুল আরো আছে মাছ। এই জন...

"বেদাদি যাগ যজ্ঞাদি কর্মে ব্রাহ্মণদেরই অধিকার"

Image
  *********************************           -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী """"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""       শাস্ত্রিয় ব্যখ্যা-    ( শ্রীবেদ আলোকে---)      বেদশ্লোকের অনুবাদঃ- ************************    * মানুষ ও দৈব ভেদে অগ্নি দুই প্রকার যথা-    ১। মানুষ্য অগ্নি;২। দৈব অগ্নি ।    ১। মনুষ্য অগ্নি (ব্রাহ্মণ)-  ভূলোকে বর্তমান হোমসাধনরূপ  মানুষ অগ্নি(ব্রাহ্মণ) ।সে হচ্ছে দেবতাদের হবি -বহনের জন্য তাদের দূত।      ২। দৈব অগ্নি- দ্যুলোকে বর্তমান দৈব অগ্নি  অসুরদের বিহিত হিত আচরণ করে বলে তাদের দূত।         দেবতাগণ প্রশ্ন করিলেন-      "তারা দু'জন আমাদের কার দৌত করা উচিৎ?- দেবতাদের এই প্রশ্নের উত্তরে প্রজাপতি ব্রহ্মা বলিলেন-    এই যে মনুষ্য অগ্নি সে হচ্ছে ব্রাহ্মণ, তারা বেদ বিহিত কর্ম সাধন করিতে প্রবৃত্য-...

ভীষ্মের পূর্বজন্ম

Image
 ভীষ্মের পূর্বজন্ম   ***********       -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী """""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""" কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে ভীষ্ম‌ করে মহারণ। অর্জুনের সে সহস্র বাণে বিদ্ধ হন।। বাণে বিদ্ধ হয়ে ভীষ্ম ব্যাথায় কাতর। লোটায়ে পড়ে ভীষ্ম ধরনীর উপর।। চুয়ান্ন দিন ছিল তিনি বাণের উপরে। তারপর গেল  তিনি বৈকুন্ঠ নগরে।। কেন ছিলেন ভীষ্ম চুয়ান্ন দিন শরে। বলিব সকল‌ আমি এক‌ এক করে।। বিধির বিধান কভু না যায় খন্ডন। যার যার কর্মভোগ ভোগে সর্বজন।। একশত জনম পূর্বে ভীষ্ম প্রবর। এক সর্প ফেলে ছিল কাঁটার উপর।। সেই সর্প বিদ্ধ হয়ে কাঁটার উপরে । চুয়ান্ন দিন পরে সর্প সেথায় মরে।। শত জন্ম পরে ভীষ্ম ঐ পাপের ফলে। শরশয্যে পড়িলেন যুদ্ধের কৌশলে।। অম্বি নামে রাজ কন্যা ছিল পূর্ব জন্মে। মন দুঃখে শাপ দিল যুবরাজ ভিষ্মে।। ভীষ্ম হত্যার লাগি তিনি পুনঃ জনমে। জনম নিলেন তিনি শিখ...

অভিবাদন প্রকৃয়া

Image
 অভিবাদন প্রকৃয়া ***************       -পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ********************************      প্রশ্নঃ অভিবাদন কাহাকে বলে?      উত্তরঃ সনাতন ধর্মানুযায়ী করোজোড়ে কপালে ঠেকিয়ে বা কপাল ছুঁয়ে এবং কপাল চরণে ঠেকিয়ে বা মাটিতে ঠেকিয়ে যে ভক্তি করা হয়‌ বা যে শ্রাদ্ধা করা হয় বা যে সম্মান করা হয় বা যে আচার করা হয়, তাহাকে অভিবাদন বলে।     অভিবাদন সাধারনতঃ দুই প্রকার যথা- ১। প্রণাম-  প্রণতী-ভূমিতে বা পায়ে বা চরণে আনিত হয়ে বা কপাল ঠেকিয়ে যে অভিবাদন করা হয় তাহাকে প্রণাম বলে।   এই প্রণাম কাহাকে করা যায়- দেবতা, ব্রাহ্মণ, মহাগুরু,পিতা মাতা, বড় ভাই, পরমাত্মা গুরু শশুড় শাশুড়ীএবং স্বমীকে এই প্রকৃয়ায় প্রণাম করিতে হয়।   বিঃদ্রঃ- পথে ঘাটে প্রণাম করিতে সমস্যা হইলে,করজোড়ে কপালে ঠেকিয়ে প্রণাম করিলেই চলিবে। কিন্তু সামনে থাকিলে অবশ্যই কপাল ঠেকিয়েই প্রণাম করিতে হইবে। অন্যথায় অভিবাদন কারির অহংকার প্রতিফলিত হইবে এবং অপযশ হইবে।     ২। নমস্কার- করজোড়ে কপালে ছুঁয়ে বা কপালে ঠেকিয়ে যে অভিবাদন করা হয়, তাহাকে নমস্কার বলে।   ...