Posts

Showing posts from December, 2020

পঞ্চ মহাযজ্ঞ

Image
 পঞ্চ মহাযজ্ঞ """""""""""""""""" -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী """"""""""""""""""""""""""""""""""" শোনেন সুধী জন শোনেন দিয়া মন। শাস্ত্র বিধি তত্ত্ব সুধা করিব বর্ণন।। সনাতন শাস্ত্র বিধি বলিব বিস্তারি। শুনিয়া শীতল মন পেয়ে সুধা বারি।। স্মৃতি শ্রুতি শাস্ত্র নীতি বলিব সভায়। শুনিলে মনের ভ্রান্তি দূর হয়ে যায়।। ব্রহ্ম দৈব পিতৃ ভূত আরো যে নৃ-যজ্ঞ। সনাতনে স্থিতি তাহা জানে না সে অজ্ঞ।। এই পাঁচটি কর্ম্মকে মহাযজ্ঞ বলে। পাপ পুণ্য জন্মে তাতে জানিবে সকলে।। সাত্বিক ভাবেতে যদি যজ্ঞ নাহি করে। তবেতো নিজের দেহে পাপ ফল ধরে।। ভিন্ন ভিন্ন পাঁচটি কর্ম্ম দেখিতে পাই। এক কর্ম্মে অন্য কর্ম্ম করে লাভ নাই।। বেদাদি পাঠেতে হয় পুণ্য উপজয়। ব্রহ্মযজ্ঞ বলে তারে শাস্ত্র মাঝে কয়।। দেবতা পূজায় তাতে পুণ্য লাভ হয়। দৈবযজ্ঞ বলে তারে শাস্ত্র মাঝে কয়।। পিত্রাদির শ্রাদ্ধ...

অধর্ম কথন

Image
 অধর্ম কথন *********      -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী *********************** "ছন্দ-পয়ার শোন শোন হরি ভক্ত  শোন দিয়া মন। ব্যাসের প্রসাদ কিছু  করিব বর্ণন।। সরল ভাষায় আজি  বুঝানোর লাগি। লিখিব পয়ার ছন্দে শক্ত ভাষা ত্যাগী।। নির্মল মনেতে শাস্ত্র পড়িবে  যতনে। খুঁজিয়া পাইবে ভবে  অমূল্য রতনে।। অনেক ধর্মনিষ্ঠ পুত্র  ব্রহ্মা সৃজিলেন। আরেক অধর্ম পুত্র  সৃষ্টি করিলেন।। সৃজিয়া অধার্মিক পুত্র  জগত মাঝে। পড়িলেন বিপাকে ব্রহ্মা  নিজের কাজে।। জন্মিয়া অধার্মিক পুত্র  বিশ্ব সংসারে। বিধি বাহিরে কর্ম  করিল ইচ্ছা ভরে।। অধর্ম করিল বিয়া  মিথ্যা নামে নারী। তার গর্ভে জন্ম নিল  যত ব্যাভিচারি।। এক পুত্র এক কন্যা  জন্মিয়া উদরে। নিজ কন্যা বিয়া দিল  প্রিয় পুত্র বরে।। দম্ভ পুত্রের নাম  মায়া নাম কন্যার। ভাই বোন দুইয়ের  বিভা সমাচার।। তাদের মিলনে পরে  পুত্র কন্যা জন্মে। লোভ আর শঠতা  নামে হয় ভূবনে।। পুত্র লোভ বিভা করে  শঠতা বোনে। বিবাহ হয় তাদের  পরম যতনে।। তাহাদের মিলনে হয়  দুটি সন্তান। ক্রোধ ...

সনাতন ধর্মের প্রমাণ.

Image
 সনাতন ধর্মের প্রমাণ.  ********************  -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ---+++++++++++++++++++ ছন্দ-পয়ার *********** শোন শোন বন্ধুগণ শোন দিয়া মন। ধর্মের প্রমাণ তত্ত্ব করিব বর্ণন।। ব্রহ্মদেব যেই ভাবে তত্ত্ব বলেছেন। ঋষিগণ যেই ভাবে লিখিয়া গেছেন।। সেই ভাবে তত্ত্ব কথা লিখিব বিস্তারি। সকল ভক্তগণে শুনিবে কর্ণভরি পূর্ব জন্মাদির সাথে বন্ধনের হেতু। এই জন্মে তৈরী করে সংসারের সেতু।। বৈবাহিক বন্ধনে নারী বদ্ধ হয়ে ঘরে। কঙ্কণ ধারন করে সনাতন আচারে।। কঙ্কণ ধারন অর্থ সঙ্কল্প ধারন। স্বামীর সাথে স্ত্রী ভবে কাটাবে জীবন।। সিঁদুর ধারন করে স্বামীর লাগিয়া। সুখে যেন পৃথিবীতে থাকেন বাঁচিয়া।। কঙ্কণ ধারন করে নারীদের হাতে। স্বামী যেন চির দিন থাকে তার সাথে।। বিচিত্র বস্ত্র অলংকার পরে স্ত্রীর গায়ে। নুপুর বাঁধে তার আলতা রাঙ্গা পায়ে।। আনন্দেতে সাজে স্ত্রী স্বামীর লাগিয়া। জীবন কাটে দিন স্বামীর সাথি হইয়া।। সমগ্র বেদ হল ধর্মের সত্য মূল। প্রমাণ সরূপ তাহা সংসারের কুল।। সদাচারে যেবা নারী থাকেন সংসারে। সত্যবতী বলে তিনি বিধিত সংসারে।। পঞ্চযজ্ঞ  বিবাহ  আর কঙ্কণ ধারন । ললাটে সিঁদুর টিপ বিবাহ কারন।। এই ...

জন্মান্তরবাদ ও অশৌচ বিধি

Image
 জন্মান্তরবাদ ও অশৌচ বিধি """""""""""""""""""""'""""""""""""""""'   -শ্রীপবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ************************** ছন্দ- পয়ার প্রথমে বন্দি আমি  পিতামাতা চরণ। শ্রীচরণ বন্দিয়া করি  শ্রীগুরু স্মরণ।। তার পরে বন্দনা করি  জগত সাঁই। ইহ কালে প্রেম দিতে  আর কেহ নাই।। শোন শোন শ্রোতা সব  করি নিবেদন। শাস্ত্র হতে কিছু তথ্য  করিয়া চয়ন।। জন্মান্তরবাদ তত্ত্ব  বলি ভাল মতে। শুনিবেন সাধু সবে  এইনা সভাতে।। পূর্ব জন্ম কর্ম দোষে  দূষিত হইয়া। পরবর্তী জীব কুলে  আসে জন্ম নিয়া।। কি কারণে জীব সব  জন্মে বারে বারে। বলে যাব তত্ত্ব কথা  সভার ভিতরে।। যার যার কর্ম ফল  প্রভূ দান করে। কর্ম ফলে পাপ পূণ্য  যার যার ধরে।। কর্ম দ্বারা পাপ পুণ্য  শাস্ত্রেতে বিধিত। সে পাপ পুণ্য ভেদে  হয় জন্ম বিহিত।। তাহাতেই উঁচু নিচু  জাতি সৃষ্টি হয় । সকল জীব কুলেই  শ্রেণি ভেদ রয়।। দেবতা মানব আর পশু পাখি গাছ। আরো আছে কৃমি কুল আরো আছে মাছ। এই জন...

"বেদাদি যাগ যজ্ঞাদি কর্মে ব্রাহ্মণদেরই অধিকার"

Image
  *********************************           -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী """"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""       শাস্ত্রিয় ব্যখ্যা-    ( শ্রীবেদ আলোকে---)      বেদশ্লোকের অনুবাদঃ- ************************    * মানুষ ও দৈব ভেদে অগ্নি দুই প্রকার যথা-    ১। মানুষ্য অগ্নি;২। দৈব অগ্নি ।    ১। মনুষ্য অগ্নি (ব্রাহ্মণ)-  ভূলোকে বর্তমান হোমসাধনরূপ  মানুষ অগ্নি(ব্রাহ্মণ) ।সে হচ্ছে দেবতাদের হবি -বহনের জন্য তাদের দূত।      ২। দৈব অগ্নি- দ্যুলোকে বর্তমান দৈব অগ্নি  অসুরদের বিহিত হিত আচরণ করে বলে তাদের দূত।         দেবতাগণ প্রশ্ন করিলেন-      "তারা দু'জন আমাদের কার দৌত করা উচিৎ?- দেবতাদের এই প্রশ্নের উত্তরে প্রজাপতি ব্রহ্মা বলিলেন-    এই যে মনুষ্য অগ্নি সে হচ্ছে ব্রাহ্মণ, তারা বেদ বিহিত কর্ম সাধন করিতে প্রবৃত্য-...

ভীষ্মের পূর্বজন্ম

Image
 ভীষ্মের পূর্বজন্ম   ***********       -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী """""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""" কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে ভীষ্ম‌ করে মহারণ। অর্জুনের সে সহস্র বাণে বিদ্ধ হন।। বাণে বিদ্ধ হয়ে ভীষ্ম ব্যাথায় কাতর। লোটায়ে পড়ে ভীষ্ম ধরনীর উপর।। চুয়ান্ন দিন ছিল তিনি বাণের উপরে। তারপর গেল  তিনি বৈকুন্ঠ নগরে।। কেন ছিলেন ভীষ্ম চুয়ান্ন দিন শরে। বলিব সকল‌ আমি এক‌ এক করে।। বিধির বিধান কভু না যায় খন্ডন। যার যার কর্মভোগ ভোগে সর্বজন।। একশত জনম পূর্বে ভীষ্ম প্রবর। এক সর্প ফেলে ছিল কাঁটার উপর।। সেই সর্প বিদ্ধ হয়ে কাঁটার উপরে । চুয়ান্ন দিন পরে সর্প সেথায় মরে।। শত জন্ম পরে ভীষ্ম ঐ পাপের ফলে। শরশয্যে পড়িলেন যুদ্ধের কৌশলে।। অম্বি নামে রাজ কন্যা ছিল পূর্ব জন্মে। মন দুঃখে শাপ দিল যুবরাজ ভিষ্মে।। ভীষ্ম হত্যার লাগি তিনি পুনঃ জনমে। জনম নিলেন তিনি শিখ...

অভিবাদন প্রকৃয়া

Image
 অভিবাদন প্রকৃয়া ***************       -পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ********************************      প্রশ্নঃ অভিবাদন কাহাকে বলে?      উত্তরঃ সনাতন ধর্মানুযায়ী করোজোড়ে কপালে ঠেকিয়ে বা কপাল ছুঁয়ে এবং কপাল চরণে ঠেকিয়ে বা মাটিতে ঠেকিয়ে যে ভক্তি করা হয়‌ বা যে শ্রাদ্ধা করা হয় বা যে সম্মান করা হয় বা যে আচার করা হয়, তাহাকে অভিবাদন বলে।     অভিবাদন সাধারনতঃ দুই প্রকার যথা- ১। প্রণাম-  প্রণতী-ভূমিতে বা পায়ে বা চরণে আনিত হয়ে বা কপাল ঠেকিয়ে যে অভিবাদন করা হয় তাহাকে প্রণাম বলে।   এই প্রণাম কাহাকে করা যায়- দেবতা, ব্রাহ্মণ, মহাগুরু,পিতা মাতা, বড় ভাই, পরমাত্মা গুরু শশুড় শাশুড়ীএবং স্বমীকে এই প্রকৃয়ায় প্রণাম করিতে হয়।   বিঃদ্রঃ- পথে ঘাটে প্রণাম করিতে সমস্যা হইলে,করজোড়ে কপালে ঠেকিয়ে প্রণাম করিলেই চলিবে। কিন্তু সামনে থাকিলে অবশ্যই কপাল ঠেকিয়েই প্রণাম করিতে হইবে। অন্যথায় অভিবাদন কারির অহংকার প্রতিফলিত হইবে এবং অপযশ হইবে।     ২। নমস্কার- করজোড়ে কপালে ছুঁয়ে বা কপালে ঠেকিয়ে যে অভিবাদন করা হয়, তাহাকে নমস্কার বলে।   ...

নারদের ব্রহ্ম জ্ঞান লাভ

Image
নারদের ব্রহ্ম জ্ঞান লাভ      - পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী মহাদেব নারদেরে  কন সম্বোদিয়া। আলোচনা করিবারে  ব্রহ্মতত্ত্ব নিয়া।। কেমনেতে বিধি হইল   ভবে অবতারি। সৃষ্টি তত্ত্ব তব কাছে  বলিব বিস্তারি।। পরম ব্রহ্ম অংশেতে   সৃষ্টি কালে হয়। তাহাতে নির্গুণ আত্মা  সেচ্ছা ময়ি রয়।। মাটির দ্বারাতে কুম্ভকার  যে প্রকারে। কলসাদি তৈরী করে  বিভিন্ন আকারে।। অলংকার স্বর্ণকারে  তৈরী করিবারে। স্বর্ণ ছাড়া কভু তা  করিতে নাহি পারে।। কেবল চুরি করিতে  পারে দোহে মিলে। সৃষ্টিতে করিতে নারে  এক রতি তিলে।। স্বর্ণ মাটি কেহ কি তা কভু সৃষ্টি করে। এমন ক্ষমতা দোহে কভু নাহি ধরে।। মূল রূপে প্রকৃতিতে  সৃজেন বিধাতা। এ বিশ্ব রহিয়াছে জালের মত পাতা।। কেহ বলে স্বয়ং ব্রহ্ম দ্বিবিধ আকৃতি। পুরুষের রূপ আর আকার প্রকৃতি।। ব্রহ্মের বাহিরেতে প্রকৃতি কভু নয়। জানিও তা মুনিবর এইতো নিশ্চয়।। সংক্ষেপেতে ব্রহ্ম তত্ত্ব তোমা বলিলাম। শুনিলেই পাপী তাপী পায় নিত্য ধাম।। পবিত্র রচিল গীত কৃষ্ণ কথা সার। শুনিলে ভব নদী হইয়া যাবে পার।।           ...

"সাত পাকে বাঁধা

Image
 "সাত পাকে বাঁধা" ***************         -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ------------------------------------------------------   প্রশ্নঃ সাত পাকে বাঁধা"- এর তাৎপর্য কি? উত্তরঃ-  সনাতন ধর্মের বিবাহ পদ্ধতি একটি শ্রেষ্ঠ  পদ্ধতি বলিয়া  ত্রিভূবনেই সমাদৃত। সনাতন ধর্মে দরকার হয় না কোন চুক্তি বদ্ধতার, দরকার হয়না কোন কাগজ পত্রের । কারন সনাতন ধর্মে স্ত্রীর হচ্ছে স্বামীর অর্ধাঙ্গিনী । সুতরাং নিন্দনিয় দলিল পত্রের কোনই দরকার হয়না। কারন সনাতন ধর্ম বিশ্বাস করে, শ্রেষ্ঠ মানুষের কর্মও শ্রেষ্ঠ হওয়া চাই। কারন মানুষতো আর ইতর প্রানীর পর্যায় পরেনা যে, ইচ্ছে করিলেই সব কিছুই সম্ভব করা যায়। আসলে মানুষের অধিক কামনা বাসনার বহির্প্রকাশই হইল‌ আজকাল বিবাহে দলিল পত্র তৈরীর একটি ঘৃন্য প্রচেষ্টা। আর বেশী কিছু আলোচনা করিলাম না।      যাই হোক, এবার আসি মূল কথায়।আমরা বিবাহে "সাত পাকে বাঁধা" এই  কথা শুনিয়া থাকি  বা বিয়েতে গেলেই তাহা দেখিয়া থাকি।     অঞ্চল ভেদে বা বিবাহের প্রকার ভেদে কিছুটা পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়।    কোথাও ,বর ও কনে ...

সমগোত্রা কন্যা বিবাহ নিষিদ্ধ

Image
 সমগোত্রা কন্যা বিবাহ নিষিদ্ধ ************************* - শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ********************** বিধি-১       ভিন্নপ্রবরা  পিতার অসপিন্ডা ও অসগোত্রা এবং মাতামহের অসপিন্ডা ও অসগোত্রা এইরূপ সবর্ণা  কন্যা  বিবাহ করিবে।   বিধি-২     যে কন্যা মাতামহের অসগোত্রা  এবং অসপিন্ডা ‌ও‌ পিতার অসগোত্রা ও অসপিন্ডা ব্রাহ্মণ ,ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যের পক্ষে সেই কন্যা  বিবাহ ও মৈথুন কর্মে প্রশস্ত। বিধি-৩    যে কন্যা একরূপ গোত্র ও একরূপ প্রবর,তাহাকে বিবাহ করিবে না এবং মাতামহ হইতে উপরে পাঁচ পুরুষ পর্যন্ত  প্রত্যেকের পঞ্চমী  কন্যা ত্যাগ করিবে এবং পিতা হইতে উর্দ্ধে সাত পুরুষ পর্যন্ত প্রত্যেক হইতে  সপ্তমী কন্যা পর্যন্ত ত্যাগ করিবে।        - শ্রী বিষ্ণু বচনম্   সামান্ন বিশ্লেষনঃ-         আমরা উপরোক্ত শ্রী বিষ্ণু দেবের নির্দ্দেশিত বিবাহ বিধি হইতে বুঝিতে পারিলাম যে, সমগোত্রের ও সমান প্রবরের কন্যার সাথে সম গোত্রের ও সম প্রবরের বরের সাথে বিবাহ স্মৃতিশাস্ত্রে নিষেধ করা হই...

নিজকুলের উৎকর্ষ সাধন

Image
        -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী """""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""    দেখা যাক শাস্ত্র কি বলে- "উত্তমৈরুত্তমৈর্নিত্যং সম্বন্ধানাচারেৎ সহ। নিনীষুঃ কুলমুৎকর্ষমধমানধমাংস্ত্যজেৎ।।         -শ্রী প্রজাপতি ব্রহ্মা     বিশ্লেষনঃ- নিজের বংশকে উৎকর্ষ সাধন করিতে(অর্থাৎ নিজবংশকে শ্রেষ্ঠ করিবার অভিলাশে) জাতিগত, বিদ্যাগত,চরিত্রগত ও উৎকৃষ্টতাসমন্বিত উত্তম উত্তম বংশের সাথে  সর্বদা  কন্যাদানাদি সম্বন্ধ স্থাপন করা ইহাই উত্তম।  (ইহা উত্তম)       নিজের বংশের তুলনায়  যদি উত্তম বংশ না‌ পাওয়া যায়,তবে-     তবে সমান বংশেও সম্বন্ধ হওয়া ভাল। (ইহা মধ্যম)    কিন্তু সর্বদা অপকৃষ্ট  বংশকে পরিত্যাগ করাই উত্তম । ইহা অধম বলিয়া জানিবে।     বিঃদ্রঃ-এখানে নিজের তুলনায় অধম জাতির সাথে কন্যাদানাদি সম্বন্ধ ত্যাগ করার কথা বলা হইয়াছে।       (সনাতন ...

তপস্বী বিড়াল

Image
-শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ********************************     ( মহাভারত-শান্তি পর্ব) ''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''': একদা এক বিড়াল ছানা পড়িয়া ছিল বনে, মাতাপিতা হারা হইয়া কাঁদে ব্যাথিত মনে। বিড়াল ছানার কান্না শুনিয়া এক দ্বিজবর, ধর্মের কথা মনে স্মরিয়া  ভাবিলেন বিস্তর। বিপদেতে পরিলে জীব উদ্ধারিতে হয়, জীব রক্ষা ধর্ম হয় শাস্ত্রে তাহা কয়। এই কথা ভাবিয়া দ্বিজে বিড়ালে কোলে করি, বাড়িতে নিয়া গেলেন তিনি মানব ধর্ম স্মরি। স্ত্রীকে ডাকিয়া বলেন তিনি শোনগো পাটেশ্বরী, সুখি সংসার দিল প্রভূ সন্তান নিল কাড়ি। সন্তান মত শাবকেরে লালন পালন  কর, দুধের সাধ মিটাই ঘোলে বিড়ালে সন্তান তর। এই ভাবে দিন মাস  বছর চলিয়া যায়, বিড়াল বাছা এতদিনে বড় ...

সৃষ্টির ক্রমবিকাশ"

Image
***************      -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী """"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""" পবিত্র-শ্রীবেদ আলোকেঃ- --------------------------- পয়ার ছন্দঃ ******** কোন কালে মহর্ষিগণ যথা সময়ে। ঋক স্তুতি দ্বারা তাঁরা সাধনা করয়ে।। তার ফলে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন জাতি। আজ তাহা সভা মাঝে করিব বিস্তৃতি।। অধিপতি ছিলেন তখন প্রজাপতি। প্রজা বৃদ্ধি তরে তিনি চিন্তিলেন অতি।। তিনটি ঋক্ দ্বারা সৃজিলেন ব্রাহ্মণ । ব্রহ্মণস্পতি তাদের অধিপতি হন।। পাঁচটি ঋকে যখন করিলেন স্তুতি। প্রাণীগণ সৃষ্টি হয় ভূত তার পতি।।৫ সপ্ত ঋকের দ্বারা যখন স্তুতি করে। সপ্তর্ষিগণ হয় সৃষ্টি ধরারোপরে।।৬ তাদের পতি হলেন ধাতা অধিপতি। অসাধ্য সাধন করেন সপ্ত ঋষি মতি।। নয়টি ঋকের দ্বারা স্তুতি করে মুখে। পিতৃগন সৃষ্টি হয়ে যান পিতৃলোকে।। তাহাদের অধিপতি অদিতি দেবতা। ধন্য হইল পিতৃলোক ধন্য বি...

হরিদাসে শ্রাদ্ধন্ন ভোজন

Image
 -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী """"""""""*""""""""""""""""""""""""   একদিন অদ্বৈত প্রভূ তাঁর পিতার শ্রাদ্ধ করিয়া পরম বৈষ্ণব হরিদাস ঠাকুরকে পাত্রান্ন ভোজন করান। শ্রাদ্ধের পাত্রান্ন বেদবিৎ ব্রাহ্মণ ব্যাতিত অন্য কাহাকেও ভোজন করানো শাস্ত্রে নিষিদ্ধ।সেই কারণে অদ্বৈত প্রভূর আত্মীয় ও ব্রাহ্মণ মন্ডলী ক্রুদ্ধ হইয়া সেই দিন আর ভোজন করিলেন না। ব্রাহ্মণগণ ভোজন না করায় অদ্বৈত প্রভূ সবান্ধবে সেদিন উপবাস রহিলেন এবং পরের দিন অনেক বিনয় করিয়া অনুরোধ করার পর  পুনঃরায় সকল ব্রাহ্মণগণ নিমন্ত্রন গ্রহন করিতে স্বীকার করিলেন।        তাই অদ্বৈত প্রভূ ব্রাহ্মণদেরকে সিধা (সিধা=রন্ধন ব্যাতিত চাল ডাল তরিতরকারি ইত্যাদিকে বুঝায় অর্থাৎ অরন্ধন কৃত খাদ্য সামগ্রী)দিলেন।      সেই দিন প্রচন্ড বৃষ্টি থাকার কারণে ব্রাহ্মণগন অদ্বৈত প্রভূর প্রদেয় সিধার অন্ন পাক করিতে গ্রামের কাহারো ঘরেই আগুন পাইলেন না এবং নিকটবর্ত্তী গ্রামের কাহারো ঘরেই আগুন পাইলেন না।     (সেই...

শ্রীরাধা রানী

Image
 *********************** শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী *********,************* যুদ্ধ মাঝে নারীদের কোন ভূমিকা নাই, সে কারণে নারীদের  কোন দরকার নাই। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে রাধার কিবা প্রয়োজন, নারী থাকে অন্তপুরে গৃহের কারণ। নারীর ধর্ম গৃহ কর্ম যুদ্ধ বিদ্যা নহে, এই সকল তত্ত্ব কথা ব্যাসদেব কহে। রাধা কৃষ্ণ প্রেম লীলা সে ছিল গোপন, তাই প্রকাশ্যে ব্যাক্ত করা নাহি প্রয়োজন। নারী পুরষের প্রেম থাকে যে গোপন, প্রেমের কথা প্রকাশ কেহ  করে না কদাচন। প্রেমভক্তির গুরু হন স্বয়ং রাধারানী, রাধা বিনে ভক্তি প্রেম কেহ নহে যানি। রাধা আসিলেন মর্ত্তলোকে প্রেম শিক্ষা দিতে, প্রেমের গুরু রাধারানী যানি পুরাণেতে। বৃন্দাবনে রাধা ছাড়া অন্য কোথায়ও নাই, সে কারণে মহাভরতে রাধা তত্ত্ব নাই। এই পর্যন্ত রাধাতত্বের  ইতি দিয়া যাই, শুনিলে পাপ মুক্ত হবে জগতের সবাই। পবিত্র রচিল গীত রাধা তত্ত্ব সার। এই তত্ত্ব শুনিলে পাপী হয়ে যায় পার।

দ্রৌপদী (১ম পর্ব)

Image
 দ্রৌপদী   (১ম পর্ব) """""""""""" -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ************************* হস্তিনাপুর রাজ্য সভায় অধিষ্ঠিত ধর্মাধর্ম ভুলে পুত্র স্নেহে কাতর রাজা ধৃতরাষ্ট্র, রাজ্যমোহে অন্ধ মামা শকুনির পরামর্শে কপট পাশা খেলায় হারিয়ে মাতৃসম দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণে পৈচাশিক আনন্দে উল্লাসিত দুর্যোধন। মাতৃসম কুলবধু দ্রৌপদীর বস্ত্র টেনে টেনে ক্লান্ত অত্যাচারি দুঃশাসন। রাজ্য সভায় সভা সদগণ নিরব দর্শকের মত অবলোকন করিতেছেন স্ত্রী জাতির‌ উপর অপমানের পৈচাশিক খেলা। অবলোকন করিতেছেন একজন দূর্বল নারীর উপর পাপীষ্ঠ দুর্যোধনের নির্মম অত্যাচার।  নিরব দর্শকের মত মাথা নিচু করে অত্যাচারি পাষণ্ড দুঃশাসনের দ্রৌপদীর উপর নির্যাতন অত্যাচার সহ্য করিতেছেন দ্রৌপদীর স্বামী পঞ্চপান্ডব। সহ্য করিতেছেন, কি ভাবে নরপশু অত্যাচারি  দুঃশাসন পৈচাশিক অট্ট হাসিতে উল্লাসিত হয়ে দ্রৌপদীর লজ্জার আবরিত বস্ত্র,বংশের সম্মান খুলে খুলে নিচ্ছেন। দ্রৌপদী সকলের এই নিরবতা দেখে মর্মাহত ব্যথিত!  দুঃখে ক্ষোবে সিক্ত নয়নের বহমান অশ্রুধারা বেয়ে বেয়ে ভিজে যাচ্ছে তাঁর ব্যাকুলিত বক্ষ! দ্রৌপদী কেঁদ...

ভরতের পিতৃ শ্রাদ্ধ.

Image
      -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ***************************** ছন্দ-পয়ার রামের মতন রাজা কে আছে জগতে। প্রজার সুখ লাগি সীতা দেন বনেতে।। রামের মত কে আছে এমন সন্তান। পিতার মান বাঁচাতে বনবাসে যান।। পিতার আজ্ঞাতে তিনি যান বনবাস। কৈকেয়ী মাতার মনের পুরাতে আশ।। পিতৃসত্য পালিবারে রাম গেল বনে। পুত্র শোকে পিতা মরে শোকাহত মনে।। আয়ু থাকিতে রাজায় অকালেতে মরে। অকালে মরিয়া রাজা যায় স্বর্গপুরে।। পরমায়ু ছিল দশ হাজার বছর। সহস্র থাকিতে বাকি ত্যাগে দেহঘর।। রাজা যখন পুত্রশোকে গেলেন মারা । ভরতে মাতুল বাড়ি ছিলেন তাহারা।। দশরথ রাজার এত কপাল পোড়া। চারপুত্র থেকে তিনি হল বাসি মরা।। পুত্র অপেক্ষায় রাখে তৈলের ভিতরে। ভরত আসিয়া পরে দাহকার্য করে।। ত্রয়োদশ দিনে তাঁর শ্রাদ্ধকার্য হয়। শাস্ত্রের বিধিতে বিধান যা লেখা রয়।। ক্ষত্রিয়ের অশৌচ হয় দ্বাদশ দিনে। শাস্ত্রেতে বিধিত যাহা শ্রাদ্ধ সেই ক্ষণে।। শাস্ত্র বিধি মতে তিনি করে নানা দান। তরঙ্গ মাতঙ্গ আরো বহু ভূমি দান ।। শাল শালগ্রাম আরো বসন নানান। সাত লক্ষ তোলা সোনা দ্বিজে করে দান।। সোনার মেখলা সহ ধেনু দান করে। লক্ষ  মণ সোনা দেয় যা ছিল ভান্ডারে।। যত স্বর্ন ভ...

রাম ভক্ত হনুমান

Image
 -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ******************** বানর বলে ভাইরে হনু কেন মুখ পোড়া, হনু বলে কপাল মন্দ জানে জগত জোড়া। গুরু বাক্য রাখতে গিয়ে লঙ্কা পোড়াইতে, লেজেতে আগুন বাঁধিয়া ভাই গেলাম আগুন দিতে। মুখ দিয়ে লেজের আগুন নিভাতে ভাই গিয়া, সেই আগুনে মুখ পুড়িল বুঝাব কিবা দিয়া। লেজের আগুনে মুখ পুড়বে ভাই বুঝতে পারিনি, এত কষ্ট পাব ভাই  তাহা কভু ভাবিনি। দেশে গিয়া কেমন করে এখন মুখ দেখাই, দয়া করে বল ভাই কিবা করি উপায়। বানর বলে ভাইরে হনু প্রভূর কাছে যাও, এর একটি বিহিত কর্ম প্রভূর কাছে চাও। এই কথা শুনিয়া হনু প্রভূর কাছে গেল, প্রভূর কাছে সকল কথা তখন খুলিয়া  বলিল। প্রভূ বলে শোন বৎস চিন্তার কিছুই নাই দেশে গিয়ে দেখতে পাবে তোমার মত সবাই। তখন আর কেউ তোমায় নিন্দা করবে নাই, নিজের আলয়েতে তুমি গিয়া দেখ যাই। খুশী হইয়া হনু ভক্ত নিজের দেশে গিয়া, দেখিল সকল তার মত গেল রূপ হৈয়া। ভক্তের মত ভক্ত হইলে হবে এই মত। মন বাঞ্ছা সিদ্ধি হবে তাহা জানিবে নিশ্চিত।‌ হনুর মত রাম ভক্ত ভবে কেহ নাই, সেই হনুর চরণেতে আমি প্রণাম জানাই।       """"""""""""

শুধুই-হরে কৃষ্ণ?

Image
-শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ২৬/১১/২০২০ ***********************         অনেক হরি ভক্তগণ দেখা যায় "হরে কৃষ্ণ"বলে ঈশ্বর বা কাউকে অভিবাদন  করেন। আসলে কি তাহা সঠিক হচ্ছে আমাদের এই ভাবে বলাটা?     উত্তরে বলব- না সঠিক হয়নি।শাস্ত্রীয় ভাবে  সঠিক বলা হয়নি প্রভূর নাম।‌আর সঠিক ভাবে যদি প্রভূর নাম বলা না হয় ,তবে কি প্রভূ আমাদের ডাক শোনবেন! অবশ্যই না। পূর্ণাঙ্গ নাম ধরে না ডাকলে  প্রভূ সেই ডাকে সাড়া দেবেন কেন?      ধরুন, যদি আমার নামটা এমন করে লিখা হয় বা বলা হয় যেমন, পবিত্র না লিখে লিখা হয় পবি।আবার পুরো নাম না লিখে যদি শুধু পবিত্র বলা হয় এবং সাথে পিতার নাম যুক্ত না থাকে, তবে কি করে মানুষ আমাকে চিনবে বলুন? অবশ্যই এই‌ ভাবে বললে বা লিখলে কেউ আমাকে চিনবে না। তাহালে অবশ্যই আমার পুরো নাম ও সাথে পিতার নাম  লিখতে হবে আমার।তবেই না আমাকে চিনতে সহজ হবে।আর তবেই না আমিও অন্যের ডাক বুঝতে পারব।      ঠিক পরম ব্রহ্মের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার বুঝিতে হইবে আমাদের।     বিশ্লেষনঃ- *************    নিরাকার ব্রহ্ম হইতে প্রথম ...

আমি হয়েছি নাস্তিক।

Image
কথা- শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ************************** ধর্মের মূল না বুঝিয়া আমি হয়েছি  নাস্তিক। তাই ধর্ম কর্ম লাগেনা ভাল- তাই পারিনা হতে আস্তিক। ধর্মের মূল না বুঝিয়া আমি হয়েছি নাস্তিক। ধর্মে আছে বেদ পুরাণ, তাতে বুঝিনা ঠিক সমাধান, কোন জাগাতে কি আদান প্রদান কোন জায়গা সমান।- আমার মনে জাগে সব বেসামাল- কি তামসিক আর কি সাত্বিক। ধর্মের মূল না বুঝিয়া আমি হয়েছি নাস্তিক। ধন সম্পদের চিত্ত সুখে,  রূপ যৌবন আর শিক্ষার মোহে, ধান্ধা লাগে সব মন বাগানে চৈতন্যের অভাবে।- আমি রঙ রসের ফাঁদে পড়ে- হয়েছি যে যান্ত্রিক। ধর্মের মূল না বুঝিয়া আমি হয়েছি নাস্তিক। অধম পবিত্র কয় মন দুঃখে কয়দিন রব আর এই ভব মাঝে এই দেহ যখন অবস হবে কৈ রবে অহংকার। তখন সকল কিছুতো যাবে চলে-  ওরে মন আমার... যখন হব যে শ্মশান যাত্রিক। ধর্মের মূল না বুঝিয় আমি হয়েছি নাস্তিক।

রাধা তত্ত্ব

Image
-শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী "'"""""""""""""""""""""""""""""""  মুখাস্ত আমার নাই তবে  অসংখ্য লিখতে পারি, রাধার গুণ গান তবুও শেষ করিতে নারি। শুনেন সব বন্ধুজন শুনেন দিয়া মন, রাধা তত্ত্ব গাইব কিছু এইতো আকিঞ্চন। ভক্তের বাসনা পূর্ণ করিতে আসিয়া রাধারানী, হলেন তিনি মর্ত্তলোকে আয়ানের ঘরনী। সে কারনে আয়ান ঘোষ ক্লিব ধরাধামে, তবু রাধা আয়ানের ঘরনী ডাকে রাধা নামে। দেহের সাথে হয়না প্রেম হয় আত্মার সাথে, না বুঝিয়া মূর্খ জনে ঘুরে চিন্তা নিয়া মাথে। ভক্তি প্রেম শিক্ষার লাগিয়া  প্রকৃতির রূপ ধরি, মর্ত্তলোকে উদয় হলেন রাধা অবতরী। নিজে আচরিয়া প্রেম  শিখালেন জগতেরে, তাই রাধা ভাব বিনে মুক্তি হয় কি প্রকারে? কলিকালে ভক্তি প্রেম ছাডা কোন উপায় নাই, গীতাতে তাই ভক্তি প্রচার করিলেন গোঁসাই। তাই রাধা জপ রাধা ভজ রাধা কর সার, রাধা রানীই করিতে পারে ভব নদী পার। শিক্ষা গুরু রাধা রানী ভাব ভক্তি ভরে, তবেইতো পাবে মুক্তি  জগত সংসারে। হরি বল হরি বল হরি বল ভাইয়া,  জনম ...

প্রেমময়ী রাধারানী

Image
-শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ********************* ভক্তের ভক্তির ডাকে ভক্তের মায়ায়, লক্ষ্মী ও নারায়ণে  আসিলেন ধরায়। এসে লক্ষ্মী নারায়ণ মানব রূপেতে, প্রেম লিলা করিলেন মানবে বুঝাতে। রাধার ব্যাকুল প্রেমে প্রভূ রসরাজ, থাকিতে নাহি যে পারে গকুলের মাঝ্। প্রেমের শ্রীগুরু হন রাধা ঠাকুরানী, ভক্তের শিক্ষার গুরু ভক্তি প্রেম জ্ঞানী। তাই কৃষ্ণ দরশনে যদি থাকে আশ্, যেতে হবে দাস হয়ে শ্রীরাধার পাশ।  রাধা ভজ রাধা চিন্ত রাধা কর সার, রাধারে ভজিলে পাবে শ্রী চরণ তার। রাধা না ভজিলে পরে কৃষ্ণ কোথা পাবে , রাধা ভজিলে  আগে কৃষ্ণ পাওয়া যাবে। -------------------------

কলিকালের অধম সন্তান

Image
********************* - শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ********************** হায়রে----- কলিকালের কিছু অধম সন্তান..... মনরে..... কলিকালের কিছু অধম সন্তান। পিতা মাতায় না চিনিয়া- পিতামাতায়- পিতামাতায় না চিনিয়া চিনতে যায় সে ভগবান।। হায়রে.. কলিকালের অধম সন্তান ।। যেই পিতামাতায় জন্ম দিল, কত কষ্টে তোমায় বড় করল।- সেই পিতামাতা আজ পর হইল- সেই পিতামাতা- সেই পিতামাতা আজ পর হইল তোমার.. কাম কামনায় মজে প্রাণ।। হায়রে---- কলিকালের অধম সন্তান।। যে পিতামাতায় বিনা প্রতিদানে, লালন করে তোমায় মুক্ত মনে।- শেষে দিনে সন্তান হিসেব করে- তাঁর শেষের দিনে শেষের দিনে সন্তান হিসেব করে আমি.. কত টাকা সে করছে দান।। হায়রে..... কলিকালের অধম সন্তান। পিতামাতায় করে না সম্মান, মাটির পুতুলে খুঁজে ভগবান। হায়রে... অধম পবিত্রে কয় পিতায় ভগবান.. অধম পবিত্রে কয়. অধম পবিত্রে কয় পিতায় ভগবান সেথায়...

দুই দিনের বৈরাগী

Image
*************** কথা -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ************************** ওরে মন মনরে আমার.. দুই দিনের বৈরাগী কয় ভাতেরে অন্ন। তাদের শুনে পরাণ কাঁদে... কথা শুনে.. তাদের শুনে পরাণ কাঁদে মনে চায় হইতে বন্য। দুই দিনের বৈরাগী কয় ভাতেরে  অন্ন। না বুঝিয়া আগা গোড়া না বুঝিয়া পথের মোড়া।- অন্ধের মত চলে পথে- অন্ধের মত... অন্ধের মত চলে পথে. বুঝে না ভাল মন্দ।। দুই দিনের বৈরাগী কয়  ভাতেরে অন্ন।। না বুঝিয়া বৃক্ষেরি তল ঢালে কেবল আগাতে জল।- অধম পবিত্রে কয় শোনরে মনা- পবিত্রে কয়, অধম পবিত্রে কয় শুনরে মনা সত্যতে কর গন্য।। দুই দিনের বৈরাগী কয় ভাতেরে অন্ন। ***********************

বেতালের দুনিয়া

Image
"""""""""""""""""""""""" -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ********************** কে বুঝে গানের মর্ম তেমন মানুষ পাব কৈ, এই যে এক আজব দুনিয়া ভেবেছি কত সই! রঙ মাখিয়া স্বং সাজিয়া মুখোশ পড়িয়া মুখে, ধান্দাবাজী করে কেবল রঙের আত্ম সুখে। তাল বাহানা করে কেবল বেতালের দুনিয়ায়, এদের ফাঁদে পড়ে মানুষ উল্টা দিকে ধায় ফাঁদে পড়িয়া মানুষ অন্ধকার দেখে, গড়াগড়ি দেয় কেবল গায়ে কাঁদা মেখে।

কু-সন্তান

Image
-শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ২৬/১১/২০২০ """""""""""""""""""""""""""""""""_" পিতা হতে জন্ম হয় পুত্র কন্যাগণ, অনেক আদরে পিতা করেন পালন। ঝড় বৃষ্টি বিপদ আপদ করে উপেক্ষা, সন্তানে বড় করে দিয়ে শিক্ষা দীক্ষা। সে সন্তান যদি হয় বংশের কুলাঙ্গার, চৌদ্দ পুরুষের সম্মান করে ছারখার। যে সন্তান পিতার মুখে দিয়া চুনকালি, সার্থের লাগিয়া দেয় দুধ ভাতে ছালি। সেই কু-সান্তান লাগি পিতার নয়ন ঝরে, সে নয়ন জলে পাপীর টনক্ নাহি নড়ে। আনন্দে পাপী সন্তান সুখের পাহাড় গড়ে, একদিন সেই পাহাড় ঝরে ঝরে পড়ে। কোন কালে তার ঘরে জন্মিলে সন্তান, তার মতই হবে জেন অসভ্য মস্তান। সেই সন্তান হবে জেনো ধর্ম বিরোধি, অধর্ম করিয়া ভবে যাবে নিরবধি। সেও পাবে সেই দুঃখ যেমন দিয়েছিল, গিভ এন্ড টেক নিয়মে যেমন পূর্বে ছিল। তেমন হইবে জেন তাহার জীবনে, প্রকৃতির নিয়ম তাহা স্মরণ রেখ মনে। দশটা না হয়ে হলে এক সু-সন্তান, সেই রাখিতে পারে বংশের সম্মান। সন্তানে যদি পিতা না দেয় সু-শিক্ষা, সময় মত তার...

নবরূপ

Image
  -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী *************************     একদা এক শৃগাল কোন এক গৃহস্থের বাড়ি থেকে একটি মুরগি চুরি করিয়া বাড়ির পাশেই এক গর্তের মধ্যে বসিয়া মনের আনন্দে মুরগি খেতে ছিল। ঐ বাড়ির গৃহস্থ জীবিকা নির্বাহের জন্য রঙের কাজ করত। সেই কারণে সাধারণ মানুষ তাহাকে রঙ মিস্ত্রি বলেই জানত।        যাই হোক,তো রঙ মিস্ত্রি রঙ মেশানো কিছু জল ভুল ক্রমে ঐ গর্তে লুকানো শৃগালের দিকেই ছুঁড়ে মারল। যেই না রঙ গিয়ে ঐ শৃগালের উপড়ে পড়ল,আর শৃগালতো ভয়ে খুব‌ জোরছে দৌড়ে পালালো। পালালো এই ভেবে যে,ঐ রঙ মিস্ত্রি তাহাকে আবার মারতে আসল কি না এই ভেবে!       দৌড়তে দৌড়তে শৃগালটি যখন নিজ সম্প্রদায়ের গুহায় গিয়ে হাজির হল,তখনতো সকল শৃগালে আগত শৃগালকে দেখে একেবারে হতবাক্ হয়ে পড়ল, আর সকল শৃগালে আগত শৃগালের নবরূপ দেখিয়া বলল- ওহে প্রভু, কোথা হতে কি হেতু আগমন করলের এই পাপীদের দ্বারে কৃপা করে বলুন?      এখন  আগত শৃগালটিতো চিন্তায় পড়ে গেল আর ভাবিল, কি ব্যাপার !তাহারা আমাকে প্রভু বলিল কেন?        আগত শৃগাল ষকিয়দ্ ক্ষণ চিন্তা ভাবনা করিয়া ...

পিতৃ প্রেম

Image
"""""""""" -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী """"""""""""""""""""""""""""""""" পিতা সম বন্ধু নাই এই ভব মাঝে, পিতা সম প্রিয় কেবা পাশে রয় কাজে। বিনা মূল্যে পিতা দেয় গিরি সম টাকা, যন্ত্র সম গৃহে মাঝে ঘুরে যেন চাকা। রাত দিন কষ্ট করে পুত্র কন্যা লাগি, নিজ দেহে জীর্ণ বস্ত্র সর্ব সুখ ত্যাগী। শত  ব্যাথা পেয়ে তবু মুখে রেখে হাসি, সর্ব কর্ম করে যায় সবে ভাল বাসি। পুত্র কন্যা শিখে যেন বেশি লেখা পড়া, ধন্য হবে ভব মাঝে সব মাঝে সেরা। কত স্বপ্ন থাকে তাঁর দুটি আঁখি জুড়ে, মন মাঝে গাঁথা আশা আসে ঘুরে ঘুরে। দেব সম সেই পিতা থাকে গৃহ কোনে, হৃদে রেখে প্রেম ভাব পুত্র কন্যা সনে। পিতা সনে পুত্র কন্যা থেকে রাত্র দিনে, দেব তুল্য জ্ঞান করে চল তাঁর সনে। পিতা সম গুরু নাই এই বিশ্ব মাঝে, কষ্ট কালে পাবে তুমি ডাক দিলে কাজে। এই মত পিতৃ প্রেম  কেবা দিবে ভবে, ভেবে দেখ এক‌ মনে পুত্র কন্যা সবে?     """...

শীতল সকাল

Image
""""""""""""""*""""" - শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী *********************** শীতল সকালে অম্বর মুখ শুভ্র চাদরে ঢাকা, গেল শশধর জাগেনা দিবাকর  শিশিরে পল্লব মাখা। গভীর নিদ্রায় শায়িত শিশু থর থর কাঁপে দেহ, লেপমুড়ি দিয়ে বিছানাতে বাহিরে নাই কেহ। কিচিমিচি কলরবে মাতিয়া আনন্দে বিহঙ্গেরা নব আনন্দের দিনের সূচনায় আনন্দিত হল তারা। নব উল্লাসে হংস মিথুনে মাতিয়া উঠিল তারা, শিতল সলিলে জলকেলিতে সময় করিল সারা। কমল ফুটিল সরোবর মাঝে সৌরভে মুখরিত, সৌরভ পাইয়া অলিদল সবে আসিয়া আমোদিত। পরিমল পানে অলি তার তৃপ্ত করিল মন, পৃথিবীর যত অমর সুখে পুরিল আকিঞ্চন। বায়স বিহঙ্গে ক্ষুদার লাগিয়া উচ্চস্বরে ডাকে, কোথায় আছে অন্নদানা কে বলিবে তাকে। মরাল মরালী উড়ে বেড়ায় জলাসয় কোথায়, সন্ধানে তার ঘুরে বেড়ায় একচিত্ত সাধনায়। সোনা বরন ভাষ্কর যখন মেলিয়া দিল আঁখি, সবাই যেন সস্তি পাইল উঠিল বিছানা রাখি। কাজে কর্মে ব্যাস্ত হয়ে ছুটে চারিদিকে, দিনটি কাটে পরমানন্দে মনের পরম সুখে। """"""""""""...

ভগবত্ লাভের উপায়

Image
 *********************** শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ************************ শ্লোক- দেব-দ্বিজগুরুপ্রাজ্ঞপূজনং শৌচমার্জবম্। ব্রহ্মচর্যমহিংসা চ শারীরং তপ উচ্চতে।।    অনুবাদঃ-  দেবতা, ব্রাহ্মণ, গুরু‌ ও জ্ঞানী লোকের পূজা করা ,শরীর ও মনের পবিত্রতা রক্ষা করা, সরলতা, ব্রহ্মচর্য,ও অহিংসা- এই গুলো শারীরিক তপস্যা।      -শ্রীভগবান।       তাৎপর্য- এই ভগবৎ সম্পদ্ গুলো যে ব্যাক্তির মধ্যে আছে বা যে ব্যাক্তি ভক্তি সহকারে একটিও এই পথ ধরিয়া সুশৃংঙ্খলা বদ্ধ ভাবে সংসার জীবন যাপন চালাইয়া যান,তিনি অতি সহজেই পরমেশ্বর ভগবানের   কৃপা লাভ করিয়া থাকেন।        এখানে পরমেশ্বর ভগবান এই দুঃখময় ভব সংসার হইতে মানবের মুক্তির লাভের লক্ষে যেই আটটি পথ দেখিয়েছেন,তার সব গুলোই প্রায় সহজ ও সরল পথ নির্দ্দেশ করিয়াছেন ।এর মধ্যে ভগবানের নির্দ্দেশিত যে কোন একটি পথ ধরিয়া মধুময় সংসার কার্য করিয়া গেলেই  পরমেশ্বরের পরমপদ লাভ করা যায়।                               জয় রাধে ...

স্বপ্নের মাঝে স্বপ্ন

Image
""""""""""""""""""""""""" - শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী ১৮/১২/২০২০;১২:০৩মিঃ """""""""""""""""""""""""""""""""" গহন বিভাবরী নিস্তদ্ধ নগরী নাই কোন কোলাহল, মনে হয় যেন জনশূণ্য এই পৃথিবী  স্নিগ্ধ সুশীতল। মনে হয় যেন জোনাকিরা এসে করিতেছে রাজ্যপাট্, মনে হয় যেন তাহাদেরী রাজ্য পথ মাঠ ঘাট। যার যার ঘুমে অচেতন সবাই নাইতো কোন সাড়া, নাইতো কোন ঝগড়া বিবাদ শান্তি জগত্ জোড়া। এমনি যদি থাকিত চিরদিন জন মানব হীন, তবেইতো সুখে থাকিত হয়তো এই বিশ্ব চিরদিন। এই রাত যদি কভূ ভোর না হত এই বিশ্ব মাঝে, শান্তি থাকিত পৃথিবীর বুকে শান্তি থাকিত সকল কাজে। স্বপনের মাঝে স্বপ্ন আসিয়া বলে কানে কানে, আমিও আছি তোমার সাথে জেগে আঁকাশের তারা জানে। যদি এমনি করিয়া থাকিতে পারিতাম জেগে তোমার সাথে, হাঁটিতে পারিতাম মুক্ত বিথিকা ধরে মনোরম্ বিচিত্র ...

ব্রাহ্মণদের অত্যাচারী কার্তবীর্যাজুন ( প্রথম পর্ব)

Image
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""" --শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী """"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""    বহু বহু কাল পূর্বের কথা।কৃতবীর্য নামে একজন ধর্ম্মপরায়ণ ও দানশীল ক্ষত্রিয় রাজা ছিলেন। তিনি বিভিন্ন যজ্ঞানুষ্ঠানে ব্রাহ্মণদের পরাণ খুলে মুক্ত হস্তে দান করিতেন। আর এতেই চলে যেত স্বধর্মে নিয়োজীত ব্রাহ্মণদের দিন। এমনি করে কিছু কাল যাবার পর,রাজা কৃতবীর্য মারা যান এবং স্বর্গে গমন করেন। রাজা কৃতবীর্য মারা যাবার পরে তাঁর পুত্র কার্তবীর্যাজুন রাজা হন।হৈহয়দের অধিপতি ছিলেন কার্তবীর্যাজুন। তখন ভৃগু বংশীয় ব্রাহ্মণগন ক্ষত্রিয়দের কুল পুরোহিত বা কুলগুরু ছিলেন।...

সহযাত্রি

Image
        -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী """"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""      শাস্ত্রালোকে ************* শ্লোক-১ একঃ প্রজায়তে জন্তুরেক এব প্রলীয়তে। একোহনুভুঙ্ক্তে সুক‌ৃতমেক এব চ দুষ্কৃতম্               -সৃষ্টিকর্তা  ব্রহ্মা       ভাবার্থঃ- জীব একাকী জন্মগ্রহন করে আবার সে একাকীই মৃত্যু বরন করে থাকে। তখন সুহৃদবান্ধবেরা আর মরণ যাত্রার সহগামী হয় না। সে একাকীই  নিজের সৎ ও অসৎ কর্মের ফল ভোগ করিয়া থাকে। শ্লোক-২ মৃতং শরীরমুৎসৃজ্য কাষ্ঠলোষ্ট্রসমং ক্ষিতৌ। বিমুখা বান্ধবা  যান্তি ধর্মস্তমনুগচ্ছতি।।          -সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা    ভাবার্থঃ বান্ধবেরা  মৃতব্যাক্তির শরীরটাকে কাষ্টখন্ড  (পোড়ানো)বা মৃতপিন্ডের মত ভূমিতে রেখে মুখ ফিরিয়ে চলে যান। তখন একমাত্র ধর্মই মৃতপুরুষের সাথে অনুগমন করিয়া থাকে।     বিশ্লেষনঃ-     সুধী,আজ আমি উপরোক্ত শ্লোকদ্বয়ের ভাবানুযায়ী সহজ ও সরল ভাষায় তত্...