"বেদাদি যাগ যজ্ঞাদি কর্মে ব্রাহ্মণদেরই অধিকার"

 

*********************************

         -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী

""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""

      শাস্ত্রিয় ব্যখ্যা-

   ( শ্রীবেদ আলোকে---)


     বেদশ্লোকের অনুবাদঃ-

************************

   * মানুষ ও দৈব ভেদে অগ্নি দুই প্রকার যথা-

   ১। মানুষ্য অগ্নি;২। দৈব অগ্নি ।


   ১। মনুষ্য অগ্নি (ব্রাহ্মণ)-  ভূলোকে বর্তমান হোমসাধনরূপ  মানুষ অগ্নি(ব্রাহ্মণ) ।সে হচ্ছে দেবতাদের হবি -বহনের জন্য তাদের দূত। 


    ২। দৈব অগ্নি- দ্যুলোকে বর্তমান দৈব অগ্নি  অসুরদের বিহিত হিত আচরণ করে বলে তাদের দূত।


        দেবতাগণ প্রশ্ন করিলেন-


     "তারা দু'জন আমাদের কার দৌত করা উচিৎ?- দেবতাদের এই প্রশ্নের উত্তরে প্রজাপতি ব্রহ্মা বলিলেন-


   এই যে মনুষ্য অগ্নি সে হচ্ছে ব্রাহ্মণ, তারা বেদ বিহিত কর্ম সাধন করিতে প্রবৃত্য-এই জন্য। কিন্তু  দৈব অগ্নি অসুরদের কর্ম করার জন্য সে আসুর, ব্রাহ্মণ নয়। তাদের দুই জনের মধ্যে  মানুষ্য ব্রাহ্মণ অগ্নিকে প্রজাপতি বলিলেন- হে মানুষ অগ্নি তুমিই দূত কার্যে অধিকারী।


      অতএব, হে মানুষ্য অগ্নি, তুমি যাগের বক্তব্য সকল বিষয় বল। তা হচ্ছে হোতাকে অধ্বর্য শোনাবেন- হে দেবগণ যজমান সম্বন্ধীয়  হবির দান তোমরা শোন।অতএব, তুমি যাজ্যাপাঠের দ্বারা দেবতারা যাতে শোনতে পায়, সেরূপভাবে বলিবে। যেহেতু প্রজাপতি ব্রহ্মা মানুষ্য  ব্রাহ্মণকে  বরণ করেছিলেন, এজন্য দেবগণ উৎকৃষ্ট হলেন এবং অসুরগণ পরাজিত হলেন। 


      এই জগতে ব্রাহ্মণ এবং অব্রাহ্মণের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ ,এই নিয়ে বিবাদ কোন   অভিজ্ঞ লোকের কাছে গেলে, সেই অভিজ্ঞ ব্যাক্তি ব্রাহ্মণের শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলিবেন। তাতে সেই অভিজ্ঞ ব্যাক্তি অধিক্য হয়। আর ব্রাহ্মণের পরাভব হলে,তারও পরাভব হয়। অতএব ,কখনো ব্রাহ্মণদের পরাভব করা উচিৎ নয়।

           - শ্রীবেদ


   আমরা উপরের শ্রীবেদের ভাষ্য থেকে বুঝিতে পারিলাম যে,মর্ত্তধামে মানুষ্য ব্রাহ্মণ হচ্ছে দেবতাদের দূত সরূপ। তাই সমস্ত বৈদিক কর্মে পুরোহিত্য করার একমাত্র অধিকারীই হচ্ছেন ব্রাহ্মণ ।

           (অসমাপ্ত)


        (আমার সকল ভূল ত্রুটি  শ্রীবিষ্ণুদেবের শ্রীচরণে অর্পণ করিলাম।)


           ***********************



Comments