জন্মান্তরবাদ ও অশৌচ বিধি

 জন্মান্তরবাদ ও অশৌচ বিধি

"""""""""""""""""""""'""""""""""""""""'

  -শ্রীপবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী

**************************

ছন্দ- পয়ার

প্রথমে বন্দি আমি  পিতামাতা চরণ।

শ্রীচরণ বন্দিয়া করি  শ্রীগুরু স্মরণ।।

তার পরে বন্দনা করি  জগত সাঁই।

ইহ কালে প্রেম দিতে  আর কেহ নাই।।

শোন শোন শ্রোতা সব  করি নিবেদন।

শাস্ত্র হতে কিছু তথ্য  করিয়া চয়ন।।

জন্মান্তরবাদ তত্ত্ব  বলি ভাল মতে।

শুনিবেন সাধু সবে  এইনা সভাতে।।

পূর্ব জন্ম কর্ম দোষে  দূষিত হইয়া।

পরবর্তী জীব কুলে  আসে জন্ম নিয়া।।

কি কারণে জীব সব  জন্মে বারে বারে।

বলে যাব তত্ত্ব কথা  সভার ভিতরে।।

যার যার কর্ম ফল  প্রভূ দান করে।

কর্ম ফলে পাপ পূণ্য  যার যার ধরে।।

কর্ম দ্বারা পাপ পুণ্য  শাস্ত্রেতে বিধিত।

সে পাপ পুণ্য ভেদে  হয় জন্ম বিহিত।।

তাহাতেই উঁচু নিচু  জাতি সৃষ্টি হয় ।

সকল জীব কুলেই  শ্রেণি ভেদ রয়।।

দেবতা মানব আর পশু পাখি গাছ।

আরো আছে কৃমি কুল আরো আছে মাছ।

এই জন্ম কর্ম ফলে  যেই পুণ্য লভে।

তাহার কারণে জাতি  ভেদ হয় ভবে।।

ক্ষত্রিয় ভরত রাজা  পাপেতে মজিয়া।

হরিণ কুলে জনম নিল  হরিণ হইয়া।।

হরিণ কুলে গিয়া  অধিক পুণ্য  ফলে।

ব্রাহ্মণ কুলে ব্রাহ্মণ  হয়ে জন্ম হলে।।

নারদ মুনি পাপ করিয়া  পাপ তরে।

জনম নিলেন তিনি  দাসীর উদরে।।

ব্রাহ্মণের সেবা করে  হয় পাপ ক্ষয়।

তারপরে দেব কুলে  জনম লভয়।।

পূর্ণ পুণ্যের ফলে  ব্রাহ্মণ কুলে যায়।

পূর্ব জন্ম পুণ্য বলে  যশ ভবে পায়।।

অধ্যয়ন অধ্যাপনা  যজন যাজন।

দান প্রতিগ্রহ আর  করে দান গ্রহন।।

এই ব্রাহ্মণের ধর্ম   সর্ব শাস্ত্রে গায়।

স্বধর্ম পালনে ব্রাহ্মণ  ব্রহ্ম লোকে যায়।।

পাপ পূর্ণেতে জীব  যাওয়া আসা করে।

আসিয়া পাপ ক্ষয় জীবে  সংসারে করে।।

কর্ম করিলে যেমন  হয় পাপ ক্ষয়।

তেমনি কর্মেতে ভবে  পাপ উপজয়।।

যাহা কারণে মানব  ভজে ভগবানে।

আর না হয় ভগবানে  পূজে কি কারণে।।

পাপের কারণে হয়  বিভাগ বর্ণের ।

অশৌচাদি পূজাদি  ভাগ হয় কর্মের।।

এ জন্যে দশরাত্র  অশৌচ ব্রাহ্মণের।

শুদ্ধতা হয়ে যায়  জনম মরণের।।

চার তৃতিয়াংশ পুণ্যে  জন্মিয়া ক্ষত্রিয়।

রাজ্য পালনেতে ব্রতি জানি শুনিশ্চয়।।

দেশ রক্ষা প্রজা রক্ষা  ক্ষত্রিয়ের কর্ম।

যুদ্ধ আর শাসন  ক্ষত্রিয়দের ধর্ম ।।

দ্বাদশ রাত্রি অশৌচ  ক্ষত্রিয় বিধান।

তের দিনে ভরত শ্রাদ্ধ  করে তার প্রমাণ।।

আধা পাপ আধা পুণ্যে  ধরার উপরে।

জনম লভয় জীব  বৈশ্যার উদরে।।

ব্যাবসা বানিজ্য কৃষি  গো-পালন কর্ম।

ইহা বৈশ্যদের ভবে  জাতি গত ধর্ম ।।

বৈশ্য শুদ্ধ পক্ষে হয়  জনম মরণে।

অশৌচ বিধি বলেছে  তুলসী বচনে।।

চার তৃতীয়াংশ জীবে  পাপের কারণে।

শূদ্র কুলে জন্ম নেয়  ঈশ্বর স্মরণে।।

সেবাই পরম ধর্ম  শূদ্র জাতিদের।

ইহাই নির্দ্দেশ আছে  পরমেশ্বরের।।

এক মাসে শুদ্ধ শূদ্র  জন‌ম মরণে।

এই তত্ত্ব বলে গেছে  ব্রহ্মার বদনে।।

বিদ্যান ব্রাহ্মণের  অশৌচ আরো কম।

মাথা মুন্ডন দাহ কার্য  নাই এই নিয়ম।।

আরো আরো পাপের ফলে  এই জগতে।

নিকৃষ্ট জনম লয়  বিভিন্ন জাতিতে।।

সত্য ত্রেতা দ্বাপর কলি  যে ভাবে হয়।

এ ভাবে মানব জাতি  বিভাজিত হয়।।

ভক্তি নিয়া হরি সাধন  করিলে ভবে।

অনায়াসে মুক্তি লাভে  যাবে পুণ্য ধামে।।

ব্রাহ্মণ হইয়া যদি  করে নিন্ম‌ কাজ।

চন্ডালে ইহয়া জন্ম  পায় সদা লাজ।।

ব্রাহ্মণ হইয়া যদি  নিন্দে বেদ ব্রাহ্মণ ।

ব্রহ্ম দৈস্য হয়ে করে   জনম গ্রহন।।

ব্রাহ্মণ হরিলে পরে  ব্রাহ্মণের পেশা।

আর যদি করে সে  অবাধ মেলা‌মেশা।।

তবেতো তাহার গতি  হয় নরকেতে।

কুটি কল্পকাল ভোগে  মুক্তি পায় তবে।।

এই পর্যন্ত দিলাম ক্ষান্ত  তত্ত্ব কথার।

শুনিয়া ভক্ত সবে হইয়া  যাবে পার।

পবিত্র রচিল গীত  তত্ত্ব সুধা বারি।

প্রেমানন্দে সবে মিলে  বল হরি হরি।।

                *"""""""""""""



Comments