ভরতের পিতৃ শ্রাদ্ধ.



      -শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী

*****************************

ছন্দ-পয়ার

রামের মতন রাজা কে আছে জগতে।

প্রজার সুখ লাগি সীতা দেন বনেতে।।

রামের মত কে আছে এমন সন্তান।

পিতার মান বাঁচাতে বনবাসে যান।।

পিতার আজ্ঞাতে তিনি যান বনবাস।

কৈকেয়ী মাতার মনের পুরাতে আশ।।

পিতৃসত্য পালিবারে রাম গেল বনে।

পুত্র শোকে পিতা মরে শোকাহত মনে।।

আয়ু থাকিতে রাজায় অকালেতে মরে।

অকালে মরিয়া রাজা যায় স্বর্গপুরে।।

পরমায়ু ছিল দশ হাজার বছর।

সহস্র থাকিতে বাকি ত্যাগে দেহঘর।।

রাজা যখন পুত্রশোকে গেলেন মারা ।

ভরতে মাতুল বাড়ি ছিলেন তাহারা।।

দশরথ রাজার এত কপাল পোড়া।

চারপুত্র থেকে তিনি হল বাসি মরা।।

পুত্র অপেক্ষায় রাখে তৈলের ভিতরে।

ভরত আসিয়া পরে দাহকার্য করে।।

ত্রয়োদশ দিনে তাঁর শ্রাদ্ধকার্য হয়।

শাস্ত্রের বিধিতে বিধান যা লেখা রয়।।

ক্ষত্রিয়ের অশৌচ হয় দ্বাদশ দিনে।

শাস্ত্রেতে বিধিত যাহা শ্রাদ্ধ সেই ক্ষণে।।

শাস্ত্র বিধি মতে তিনি করে নানা দান।

তরঙ্গ মাতঙ্গ আরো বহু ভূমি দান ।।

শাল শালগ্রাম আরো বসন নানান।

সাত লক্ষ তোলা সোনা দ্বিজে করে দান।।

সোনার মেখলা সহ ধেনু দান করে।

লক্ষ  মণ সোনা দেয় যা ছিল ভান্ডারে।।

যত স্বর্ন ভান্ডার ছিল করিল দান।

অষ্টাশিত লক্ষ ধেনু দানে বাড়ে মান।।

ভরতের মত দাতা নাহি মর্তলোকে ।

যত যত রাজা ছিল চন্দ্র সূর্যলোকে।।

দান মাধ্যমে রাজার শ্রাদ্ধ শেষ হয়।

শ্রুতি স্মৃতি পুরাণেতে যত বিধি রয়।।

চতুরবর্ণ অশৌচের বিধি অনুসারে।

বশিষ্ঠ শ্রাদ্ধ করান অযোধ্যা নগরে।।

শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী দ্বীজ ছিল বশিষ্ট নিশ্চিত ।

সূর্য বংশের যিনি ছিলেন পুরোহিত।।

রাম জন্মের ষাট হাজার বছর আগে।

রামায়ণ লিখেন মুণি বসিয়া বাগে।।

কুতর্ক করিয়া দেখ রবি অস্তাচলে।।

অমুল্য মানব জনম যায় বিফলে।।

সময় থাকিতে জপ শুধু রাম নাম।

রাম নাম জপেতে পাবে বৈকুন্ঠধাম।।

রামায়ণ যেবা শুনে আর যেবা গায়।

পাপ শূণ্য হইয়া পরে বৈকুন্ঠে যায়।।

নত শিরে বন্দিয়া  শ্রীরামের চরণ।

অধম পবিত্রে রচি নিত্য রামায়ণ।।

রাম জপ রাম চিন্ত রাম কর সার।

রাম নামের গুণে হইয়া যাবে পার।।

রামের মতন রাজা কে আছে জগতে।

প্রজার লাগিয়া যিনি পত্নী ত্যাগ করে।।


           "রঘুপতি রাঘব রাজা রাম,

             পতিত পাবন সীতা রাম,

             পতিত পাবন সীতা রাম

             পতিত পাবন সীতা রাম।

            *********************



Comments