শুধুই-হরে কৃষ্ণ?


-শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী

২৬/১১/২০২০

***********************

        অনেক হরি ভক্তগণ দেখা যায় "হরে কৃষ্ণ"বলে ঈশ্বর বা কাউকে অভিবাদন  করেন। আসলে কি তাহা সঠিক হচ্ছে আমাদের এই ভাবে বলাটা?


    উত্তরে বলব- না সঠিক হয়নি।শাস্ত্রীয় ভাবে  সঠিক বলা হয়নি প্রভূর নাম।‌আর সঠিক ভাবে যদি প্রভূর নাম বলা না হয় ,তবে কি প্রভূ আমাদের ডাক শোনবেন! অবশ্যই না। পূর্ণাঙ্গ নাম ধরে না ডাকলে  প্রভূ সেই ডাকে সাড়া দেবেন কেন?


     ধরুন, যদি আমার নামটা এমন করে লিখা হয় বা বলা হয় যেমন, পবিত্র না লিখে লিখা হয় পবি।আবার পুরো নাম না লিখে যদি শুধু পবিত্র বলা হয় এবং সাথে পিতার নাম যুক্ত না থাকে, তবে কি করে মানুষ আমাকে চিনবে বলুন? অবশ্যই এই‌ ভাবে বললে বা লিখলে কেউ আমাকে চিনবে না। তাহালে অবশ্যই আমার পুরো নাম ও সাথে পিতার নাম  লিখতে হবে আমার।তবেই না আমাকে চিনতে সহজ হবে।আর তবেই না আমিও অন্যের ডাক বুঝতে পারব।


     ঠিক পরম ব্রহ্মের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার বুঝিতে হইবে আমাদের।


    বিশ্লেষনঃ-

*************

   নিরাকার ব্রহ্ম হইতে প্রথম "ওঁ"-এর সৃষ্টি হয় ।তারপরে তাঁর বিভাজন ঘটে তিনটি গুণ সৃষ্টি হয়।তাহা হল- সত্বঃগুণ, রজঃগুণ ও তমঃ গুণ।তাহা থেকে আবার তিনটি সাকার পুরুষ রূপের সৃষ্টি হয়।তাহা হল- ব্রহ্মা ,বিষ্ণু ও মহেশ্বর।


     নিরাকার ব্রহ্মের প্রথম সাকার রূপ হল- "ওঁ" বা অউম বা অ=বিষ্ণু+ উ=ব্রহ্মা+ম=মহেশ্বর।

   

   বিষ্ণু- সত্ত্বঃ গুণের প্রতিক,

   ব্রহ্মা- রজঃ গুণের প্রতিক

   মহাদেব- তমঃ গুণের প্রতিক 

     

 এবার চার যুগের বিশ্লেষনঃ করিলে আমরা অবতার পাই -


   *সত্য যুগের অবতার হলেন - শ্রী হরি বা শ্রী বিষ্ণুদেব। তিনি সাত্ত্বিক দেবতা। তাই সত্য যুগে কোন পাপ ছিল না।যে যুগ ছিল ব্রাহ্মণ প্রধান।‌এই যুগে জ্ঞান চর্চ্চাই ছিল প্রধান কর্ম। জ্ঞানের দ্বারাই ভগবানের ভজনা করা হইত ।


   (হরি শব্দে ,হরণ করা বুঝানো হইয়াছে)

       (সত্ত্বগুণের প্রতিক তিনি)


    *ত্রেতা যুগের অবতার হলেন শ্রী রাম।

 রজঃগুণে সমৃদ্ধ ত্রেতা যুগ। এই যুগ কর্ম প্রধান।তাই এই যুগে  পাপের সূচনা হয়।

এই যুগে তিনি মানব প্রেমের শিক্ষা দিয়েছেন,ত্যাগের শিক্ষা দিয়েছেন। মানবের মধ্যে মানুষকে ভালবাসার জন্য জ্ঞানের আলো প্রদান করেছেন ।


   তাই ,রাম অর্থে - জ্ঞান বা আলো বুঝানো হয়েছে,সৃষ্টিকে রক্ষা করিতে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন ।

    ( রজঃ গুণের প্রতিক তিনি)


     দ্বাপর যুগের অবতার শ্রী কৃষ্ণ । তিনি অধর্মকে বিনাশের শিক্ষা দিয়েছেন এবং নিজের হাতেও অধর্ম বিনাশ করেছে। তিনি আরো বলেছেন- যখনই অধর্মের মাত্রা বেড়ে যায় তখনই আমি মহাকাল রূপে নিজেকে সৃষ্টি করিয়া অধর্মকে বিনাশ করি ও সাধুদেরকে রক্ষা করি।

এখানে তিনি তমঃ গুনের প্রকাশ করেছেন। হয়তো তিনি সে জন্যই কালো রূপে জন্ম গ্রহন করেন। আবার তিনি ভক্তি ও প্রেমের প্রতিক।


      তাই তিনি তমঃ গুণেরও প্রতিক।


তাহলে কি দ্বারালো- (নিরাকার ব্রহ্ম=ওঁ=হরি=সত্ত্বগুণ+রাম=রজঃগুণ+কষ্ণ=তমঃগুণ)


    কলিযুগের অবতার গৌরাঙ্গ মহাপ্রভূ, তিনি কলিতে এসে ব্রাহ্মণ কুলে জন্ম নিয়ে একই অঙ্গে চারটি রূপকে ধারণ করেছেন।তাহা হল-সত্ত্ব,রজঃ,তমঃ ও প্রকৃতির প্রেম ভাব।প্রকৃতির প্রেম ভাবের প্রেম রসের সূতা দ্বারা সত্ত্বঃ রজঃ ও তমঃ গুণের তিনটি নামের মালা গেঁথে এই কলির পাপাহত মানব জাতিকে উপহার দিয়েছেন। যাহা আজ অতি সমাদরে ধ্বনীত হচ্ছে প্রত্যেকটি জীবের মুখে মুখে।


     তাইতো শাস্ত্র বলে সহজ ভাবে ভালবেসে যদি ব্রহ্মের নাম করতেই হয় তবে বল- "হরে রাম কৃষ"= ঋক্ হিসেবে বল- 

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ,

হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।


তাহালে এর অর্থ দ্বারাবে এই রূপ-

( হে নিরাকার পরম পুরুষ জগতের স্বামী/ পিতা ,আমার মনের সমস্ত রজঃ ও তমকে  হরণ করে আলো দান কর বা সাত্ত্বিক ভাবদান কর, সাত্ত্বিক জ্ঞান দান কর ,যাহার দ্বারা আমার এই মানব দেহ তোমার সেবার কাজে উপযুক্ত হতে পারে।)


       আর যদি শুধু হরে কৃষ্ণ বলা হয়- তবে ব্রহ্মের নাম সম্পূর্ণ প্রকাশ করা না। আর ঈশ্বরকে আমাদের ডাক দেওয়াও সঠিক হলনা।


     তাহলে আজ থেকে আমরা সবাই শুদ্ধ নাম বলব "হরেরামকৃষ্ণ"। অবশ্যই হরে কৃষ্ণ নয়,তাহলে যে,প্রভুর নামের অঙ্গ হানী হয়ে যাবে!

  ‌‌‌‌‌    ধন্যবাদ সবাইকে। সবার সুসাস্থ কামনা করে এখানেই ইতি টানছি।

          "জয় হরেরামকৃষ্ণ"।



Comments