ব্রাহ্মণদের অত্যাচারী কার্তবীর্যাজুন ( প্রথম পর্ব)


""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""

--শ্রী পবিত্র কুমার চক্রবর্ত্তী

""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""

   বহু বহু কাল পূর্বের কথা।কৃতবীর্য নামে একজন ধর্ম্মপরায়ণ ও দানশীল ক্ষত্রিয় রাজা ছিলেন। তিনি বিভিন্ন যজ্ঞানুষ্ঠানে ব্রাহ্মণদের পরাণ খুলে মুক্ত হস্তে দান করিতেন। আর এতেই চলে যেত স্বধর্মে নিয়োজীত ব্রাহ্মণদের দিন। এমনি করে কিছু কাল যাবার পর,রাজা কৃতবীর্য মারা যান এবং স্বর্গে গমন করেন। রাজা কৃতবীর্য মারা যাবার পরে তাঁর পুত্র কার্তবীর্যাজুন রাজা হন।হৈহয়দের অধিপতি ছিলেন কার্তবীর্যাজুন। তখন ভৃগু বংশীয় ব্রাহ্মণগন ক্ষত্রিয়দের কুল পুরোহিত বা কুলগুরু ছিলেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে,পিতা ধর্ম্ম পরায়ণ হলে কি হবে, কর্মদোষে সেই পুত্র কিন্তু ধর্ম্মপরায়ণ হন নি বরং তিনি অধিক অত্যাচারী হয়ে উঠেন। কার্তবীর্যাজুন সিদ্ধান্ত নিলেন যে ,তাঁর পিতা যত যত ধন ব্রাহ্মণদেরকে দান করে ছিলেন, তাহা তিনি ব্রাহ্মণদের নিকট হতে কাড়িয়া লইবেন।তাই কার্তবীর্যাজুন সকল ব্রাহ্মণদেরকে ধরিয়া আনিলেন রাজ সভায়। ব্রহ্মণগণ রাজার ভয়ে ঐ সকল ধন ফেরৎ দেবার কথা স্বীকার করিলেন।ব্রাহ্মণদের স্বীকারোক্তি শুনে রাজা ব্রাহ্মণদেরকে ছেড়ে দিলেন।সাথে সাথে সকল সৈন্যগণ ব্রাহ্মণদের সাফ্ সাফ্  জানিয়ে দিলেন যে,ভালয় ভালয় সকল ব্রাহ্মণগণ যেন রাজার ধন ফিরিয়ে দেন। আর না হয় তার জন্য চরম মূল্য দিতে হবে ব্রাহ্মণদেরকে। রাজার এই ঘোষনা শুনে কিছু কিছু ব্রাহ্মণগণ রাজার ধন ফেরৎ দিলেও কিছু ব্রাহ্মণগণ খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার জন্য কিছু ধন মাটির নীচে লুকিয়ে রাখেন। কার্তবীর্যাজুন তাঁর প্রাসাধে ধনের পরিমান অল্প দেখিয়া এবং ধন লুকিয়ে রাখার খবর শুনিয়া তিনি ব্রাহ্মণদের উপর চরম আঁকারে ক্ষিপ্ত হইয়া উঠিলেন এবং ধন ফিরিয়ে দেবার জন্য চরম অত্যাচার করিতে শুরু করিলেন। ব্রাহ্মণীদের নির্যাতন ও হত্যা,শিশুদের ধরে ধরে নির্মম ভাবে হত্যা এবং ব্রাহ্মণদেরকে নির্মম ভাবে হত্যা করিতে শুরু করিলেন।,এমন কি গর্ভবতী ব্রাহ্মণীদের পেট চিড়ে সেই সন্তানদেরকেও নির্মম ভাবে হত্যা করিতে লাগিলেন। পালাক্রমে অসংখ্য ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মণ মা বোনদের উপরে চরমন ভাবে নির্যাতন শুরু করেন এবং অনেক অনেক ব্রাহ্মণদের হত্যা করেন। এই ভয়ে কিছু কিছু ব্রাহ্মণগণ ভয়ে পালাতে শুরু করিলেন। এই সময় ভৃগুপত্নী ছিলেন গর্ভবতী । তিনি রাজার ভয়ে তাঁর গর্ভের সন্তানকে বাঁচানোর জন্য ব্রহ্ম শক্তি বলে তাঁর গর্ভস্থ সন্তানটিকে উরুতে নিয়ে ক্ষত্রিয়দের ভয়ে পালিয়ে যান।কিন্তু শেষ চেষ্টা করেও তিনি পালাতে পারেন নি। নর পিশাচ ক্ষত্রিয়গণ ভৃগুপত্নীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘিরে ফেলে। এই পরিস্থিতি দেখিয়া সতী ভৃগুপত্নী মহাভয়ে সন্তানটিকে প্রসব করেন। যার জন্য সেই সন্তানদের নাম দেওয়া ঔর্ব্ব। 


"কাশীদাসী রচিল গীত ভারত সার,

সে অমৃত পিয়ে বারি পাপী হয় পার।"


      (বাকী অংশ পরবর্তী পোষ্টে দেখার অনুরোধ রইল।)

                                               


Comments